আবদুল্লাহ আল নোমান ,পটিয়া চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলে দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও ঝামেলাহীন ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা। ভূমি সেবা খাতে দীর্ঘদিনের দালালদের আধিপত্য, অতিরিক্ত খরচ, হয়রানি ও অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভূমি মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পটিয়া সার্কেল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি শক্তিশালী দালাল চক্র চিহ্নিত করা হয়। পরে মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে অফিসের ভিতরে ও বাহিরে অবস্থান নেওয়া দালালদের অপসারণ করা হয়। খারিজ/নামজারি সেবা বন্ধ না রেখেই এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষের বাতাস বইছে। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড রয়া ত্রিপুরা বলেন, "ভূমি অফিসে দালালদের উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত খরচ, অযথা সময় ক্ষয় ও নানা জটিলতার মুখে পড়েছে। তাই হয়রানি রোধ ও সেবা নিশ্চিতকরণে নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং শুনানির মাধ্যমে খারিজ/নামজারি প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ভূমি সেবা সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সবাই যেন সরকারি নির্ধারিত ফি (ডিসিআর) দিয়েই যেকোন জায়গা থেকে সরাসরি সেবা নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, "উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কেউ অপপ্রচার করলেও আমি জনগণের স্বার্থে, সাধারণ ভূমি মালিক ও নীরিহ কৃষকের ন্যায্য সেবা নিশ্চিতে, কাজ কাউকে দেখিয়ে নয়ত দায়িত্ব, নৈতিকতা ও নীতির জায়গা থেকে চালিয়ে যাবো। কোন ধরনের চাপ বা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। সহকারী কমিশনারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, এখন কোনো প্রভাবশালী বা দালালের দ্বারস্থ না হয়েই জনগণ সরাসরি এসিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। এতে ভূমি সংক্রান্ত মিসকেস কমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কচুয়াই থেকে নামজারি করতে আসা কৃষক আবদুল আলীম বলেন, "আগে অফিসে এসে না চাইলেও দালালের সাহায্য নিতে হতো। এখন আর দালাল চোখে পড়ে না। অফিস থেকেই সব কাজ করা যাচ্ছে। এতে ঝামেলা কমেছে, খরচ কমেছে, সময়ও বেঁচেছে। আমরা সত্যিই সন্তুষ্ট। স্থানীয়রা মনে করছেন, দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিতকরণে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে পটিয়া সার্কেলের ভূমি সেবায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এবং সারাদেশের জন্য এটি একটি সফল ও অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।