
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল আলম দিদার দীর্ঘ ৯ মাস কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। তার মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে পটিয়া উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ জুলাই রাজধানীর বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ঢাকার পল্টন ও বনানী থানাসহ চট্টগ্রাম ও পটিয়ায় তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, নাশকতা এবং অন্যান্য অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দিদারুল আলম দিদার ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মাথায় ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি আর কার্যত দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে একজন পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মুক্তির পর নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিদারুল আলম দিদার বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং কারাগারে থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। এছাড়াও তিনি একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মোকাবিলা করবো।”
এদিকে, তার জামিনে মুক্তি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ভর করবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।