
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
পটিয়ায় রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে রিয়াদ বিন সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পটিয়া পৌরসভার পাইকপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানের নির্দেশনা এবং পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পটিয়া থানার একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় রিয়াদ বিন সেলিমের কাছ থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক সামগ্রী জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— তার ছবি সংবলিত একটি ভুয়া আইডি কার্ড, যেখানে ইংরেজিতে “CSF Chairperson’s Security Force” উল্লেখ ছিল; একটি হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, একটি ওয়াকিটকি সেট (বাওফেং BF-888S), একটি সিগন্যাল লাইট, মনিটরিং সেল কার্ড, ওয়াকিটকি সদৃশ মোবাইল ফোন এবং একটি বাটন মোবাইল সেট।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘Lion Riyadh Selim’ নামে ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভুয়া ছবি পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার নামে ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে তদবির বাণিজ্য চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি কারাগারে থাকাকালে তার স্ত্রীকে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন রিয়াদ। এ প্রলোভনে প্রথমে বিকাশে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরবর্তীতে সরাসরি আরও ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
এ ঘটনায় পটিয়া থানায় ০৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-০৬), যেখানে দণ্ডবিধির ৪১৭, ৪১৯, ৪২০, ৪০৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত রিয়াদের বিরুদ্ধে পূর্বেও ধর্ষণ ও মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে। সিএমপি আকবরশাহ ও চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া মামলাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ওয়ারেন্টও বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া জব্দকৃত মোবাইল ফোনের প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমেও অর্থ আত্মসাৎ করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রিয়াদ বিন সেলিম প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা প্রদানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।