
বিশেষ প্রতিনিধি
চলতি মাসের মাত্র ২৬ দিনেই দেশে আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বারবার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস—এমনটি সবসময় সত্য না হলেও, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করায় ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর বেশিরভাগের উৎপত্তিস্থল ছিল পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকা ও দেশের অভ্যন্তরের কয়েকটি ফল্ট লাইনের কাছাকাছি। কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৩ থেকে ৫-এর মধ্যে ছিল। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের নিকটে অবস্থিত। বিশেষ করে ডাউকি ফল্ট, মধুপুর ফল্ট ও চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা ভাঁজ অঞ্চলে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। অতীতে ১৮৯৭ সালের গ্রেট আসাম ভূমিকম্প ও ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প এ অঞ্চলের ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভূকম্পন বিশেষজ্ঞ বলেন, “ঘন ঘন ছোট মাত্রার ভূমিকম্প মানেই বড় ভূমিকম্প আসছে—এমন সরল সমীকরণ নেই। তবে এটি প্রমাণ করে ভূগর্ভে শক্তি সঞ্চালন অব্যাহত রয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্প মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, মহড়া ও ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিল্ডিং কোড অমান্য করার প্রবণতা বড় দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যথাযথ তদারকি ও আইন প্রয়োগ না হলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে