
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এখনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে হামের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করলেও সেই তালিকায় চট্টগ্রাম জেলা কিংবা পটিয়া উপজেলার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে করে স্থানীয়ভাবে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে গত শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত হাম সন্দেহে মোট সাতজন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে বর্তমানে দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং বাকি রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে। চিকিৎসাধীন দুই শিশুকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় একটি নির্দিষ্ট কক্ষে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি না থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। দুইজন অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞ সার্বক্ষণিকভাবে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবহেলা না ঘটে।
এদিকে, আক্রান্ত সন্দেহে সাতজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনের পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে, যা নেগেটিভ এসেছে। বাকি চারজনের রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরও জানান, পটিয়ায় এখন পর্যন্ত হামের কোনো নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে দেশব্যাপী সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হামের লক্ষণ যেমন—জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পটিয়া উপজেলা আপাতত হামের ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের