
নিজস্ব সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপির মনোনীত শিল্পপতি এম এয়াকুব আলীর প্রার্থীতা অবশেষে বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই রায়কে ন্যায়বিচারের ঐতিহাসিক বিজয় এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্যের জয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এর ফলে তার নির্বাচনী প্রচারণায় আর কোনো আইনগত বাধা রইলো না।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে এম এয়াকুব আলীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন এবং দ্রুত প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মোমেন চৌধুরী রিফাত বলেন, হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, অন্যায়ভাবে একজন জনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচনী মাঠের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতের আদেশের মাধ্যমে সেই অন্যায়ের অবসান ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশের পর এখন নির্বাচন কমিশনের আর কোনো অজুহাত নেই। দ্রুত তাকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টকে অজুহাত বানিয়ে এম এয়াকুব আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। যদিও ওই রিপোর্টের বিষয়ে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের এক কমিশনার তা প্রকাশ্যে উপেক্ষা করে আপিল নামঞ্জুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ন্যায়বিচার ফিরে পান এম এয়াকুব আলী।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ১০ দলীয় জোট প্রার্থী শিল্পপতি এম এয়াকুব আলী বলেন, এই রায় শুধু আমার ব্যক্তিগত বিজয় নয়, এটি পটিয়াবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বিজয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমত ও আদালতের ন্যায়বিচারে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলডিপির প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, দলের নেতাকর্মী এবং পটিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার পাশে থেকে সাহস ও শক্তি যুগিয়েছে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ছাতা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে পটিয়াকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। রাজনীতি হবে জনগণের সেবা করার হাতিয়ার, লুটপাটের নয়।
এদিকে হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ১০ দলীয় জোটের নেতারা বলেছেন, এটি প্রমাণ করেছে যে যত ষড়যন্ত্রই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়বিচারেরই জয় হয়। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পটিয়ার মানুষ এবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে ভূমিকা রাখবে।