
নিজস্ব সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফাজিলাতুন্নেছা (৩০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে মাগুরা থেকে বান্দরবানে ঘুরতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফাজিলাতুন্নেছা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান সুজনের স্ত্রী। ফাজিলাতুন্নেছা মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আলিমুজ্জামান সুজন পিডিবির খুলনা অঞ্চলে জুনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, আলিমুজ্জামান সুজন স্ত্রী ও ছয় বছর বয়সী ছেলে উমাইয়ের হাম্মাদকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে মাগুরা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। রোববার রাতে তাঁরা চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট খাজারোড এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় অবস্থান করেন। সোমবার সকালে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে আবার রওনা হন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার নয়াহাট এলাকায় পৌঁছালে একটি লেগুনার সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ফাজিলাতুন্নেছা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে সড়কের মাঝখানে পড়েন। ঠিক সেই সময় পেছন দিক থেকে আসা “লন্ডন এক্সপ্রেস” নামের একটি দ্রতগতির চেয়ারকোচ তাঁকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে থাকা ছেলে উমাইয়ের রাস্তার পাশে পড়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যায়; তাঁর কোনো আঘাত লাগেনি। তবে পিডিবি কর্মকর্তা সুজনের ডান হাতে আঘাত লাগে। খবর পেয়ে পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
নিজের পরিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সম্পর্কে আলিমুজ্জামান সুজন বলেন, “কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে পরিবার নিয়ে বান্দরবানে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। শনিবার মাগুরা থেকে রওনা হই, রবিবার রাতে বন্ধুর বাসায় থাকি। সোমবার সকালে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে আবার রওনা দিই। পটিয়ার নয়াহাটে পৌঁছাতেই দুর্ঘটনা ঘটে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল।”
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লেগুনার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের পর ওই নারী পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা কোচ গাড়িটি তাঁকে চাপা দেয়। কোচটি দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যায়। আমরা গাড়ি ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা করছি।