
নিজস্ব সংবাদদাতা :
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা এলাকায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সন্ধা নামলেই মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, অলিগলি, বাসাবাড়ি, বাজার, মসজিদ ও প্রধান সড়কগুলোতে মশার ঝাঁক চোখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। নিয়মিত নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করা এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে মশার বংশবিস্তার বেড়েছে।
জানা যায় পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ বললেই চলে। ফলে নাগরিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক এলাকায় নালা ভরাট হয়ে পানি জমে থাকায় সেখানে মশার উপদ্রব বেশি দেখা যাচ্ছে।
২নং নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, “মাগরিব এবং এশার নামাজে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে পড়েছে মশার কামড়ে। আগে এমন পরিস্থিতি ছিল না, এখন এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাতেও ব্যাঘাত ঘটছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর শিশুদের পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে মশার কারণে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজারে সন্ধ্যার পর ক্রেতা কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। একজন চা বিক্রেতা বলেন, “আগের মতো রাতে আড্ডা হয় না। মশার কারণে মানুষ দ্রুত বাড়ি ফিরে যায়।
এ ব্যাপারে কথা বলতে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমানকে কল দেওয়া হলে,তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
পৌর সচিব নেজামউদ্দিন এর সাথে কথা বললে,তিনি বিষয়টি তার দায়িত্ব নেই বলে,এড়িয়ে যান,এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলে,কল কেটে দেন।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু ফগিং করলেই মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে।