
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার কমলমুন্সিরহাট এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর ১টার দিকে কমলমুন্সিরহাট আনসার ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহাদাত হোসেন সামি (১৬) ও ওয়ালিদ আল তাসনিম (১৭)। শাহাদাত হোসেন সামি চক্রশালা কৃষি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ মুহাম্মদ পাড়ার আকতার হোসেনের ছেলে। ওয়ালিদ আল তাসনিম আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তিনি একই এলাকার জাহিদুল আলমের ছেলে।
গুরুতর আহত হয়েছেন মুহাম্মদ তানভীর জয় (১৮)। তিনি এবার চক্রশালা কৃষি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বাড়িও উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মুহাম্মদ পাড়া এলাকায়। তাঁর পিতার নাম আবদুল আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারমুখী হানিফ পরিবহনের একটি বাস (চট্টমেট্টো-ব-১১০৩৮২) বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পালসার মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক শাহাদাত হোসেন সামির মৃত্যু হয়। পরে আহত অবস্থায় ওয়ালিদ আল তাসনিম ও মুহাম্মদ তানভীর জয়কে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়ালিদ আল তাসনিম মারা যান।
কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ মুহাম্মদ পাড়ার বাসিন্দা মুহাম্মদ জসিম বলেন, “তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে পটিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কমলমুন্সিরহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসটির সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।”
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুচিতা দেব বলেন, “আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন হাসপাতালে মারা যান। অপর একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া বলেন, “মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। অন্য দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরেকজনের মৃত্যু হয়। অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”