
আবদুল্লাহ আল নোমানঃ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চ্যাসা ভোট ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক পুরোনো পেশা হারিয়ে গেলেও এখনও কিছু মানুষ নিজেদের পরিশ্রম ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে টিকিয়ে রেখেছেন এ ব্যবসা। তেমনই এক পরিচিত নাম ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার।
জানা যায়, আবদুল জব্বারের পিতা মরহুম আহমুদুর রহমান ছিলেন পটিয়ার চ্যাসা ভোট ব্যবসার অন্যতম পথিকৃৎ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের পরিবারই গড়ে তোলেননি, বরং এলাকায় এই ব্যবসাকে একটি পরিচিত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহমুদুর রহমান চ্যাসা ভোট ব্যবসা করে তার ৫ ছেলে ও ৩ মেয়েকে মানুষ করেছেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়া, সংসার পরিচালনা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে। জীবনের প্রতিটি ধাপে সংগ্রাম করেও তিনি কখনও হার মানেননি।
বর্তমানে পিতার সেই ব্যবসার হাল ধরেছেন তার ছেলে আবদুল জব্বার। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে-ময়দানে থেকে ব্যবসার নানা দিক শিখেছেন তিনি। বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে এখনও সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
আবদুল জব্বার জানান,
“আমার বাবা অনেক কষ্ট করে এই ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। এই ব্যবসার আয় দিয়েই আমাদের বড় করেছেন। বাবার স্মৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এখনও আমি এই পেশার সঙ্গে আছি।”
স্থানীয় প্রবীণ আবদুল মালেক বলেন, একসময় পটিয়ায় চ্যাসা ভোট ব্যবসার নাম বললেই আহমুদুর রহমানের পরিবারের নাম সবার আগে চলে আসতো। তাদের হাত ধরেই এ ব্যবসা এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এখনও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন আবদুল জব্বার।
এলাকাবাসীর মতে, আধুনিকতার যুগে পুরোনো পেশাগুলো হারিয়ে যাওয়ার পথে থাকলেও আবদুল জব্বারের মতো মানুষরা নিজেদের ঐতিহ্য, পরিশ্রম ও আত্মসম্মান ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে সংগ্রামী জীবনের উদাহরণ হয়ে আছেন।